Notice :
আমাদের সাইটে আপনাদের স্বাগতম
করোনার-কারণে বদলে যাবে স্কুল-কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পদ্ধতি

করোনার-কারণে বদলে যাবে স্কুল-কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পদ্ধতি

নিউজ ডেক্স: বড় ক্লাসের শিক্ষার্থীদের করোনা-ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নি’রাপত্তা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য’বিধি মেনে ক্লাস নেয়া হবে। এজন্য স্বাস্থ্য-বিধি গাইড’লাইন তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। পরীক্ষার ঝুঁকি-কমাতে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস মূল্যায়ন বাড়ানো হতে পারে। মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে নতুন গাইড’লাইন অনুসরণ করে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে মাউশি থেকে নির্দেশ-দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও মাউশি সূত্র বলছে, করোনা’কালীন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং স্বাস্থ্য-মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া স্বাস্থ্য’বিধি অনুসরণ করে দেশের সব নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও কলেজে ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনায় একটি স্বাস্থ্য-বিধি নীতি’মালা তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক আগের মতো আর শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে না।

তবে এই বিষয়ে সূত্র বলছে, ক্লাসে দূরত্ব রেখে শিক্ষার্থীদের বসানো হবে। প্রতিদিন এক’সঙ্গে সব শ্রেণির ক্লাস নেয়া হবে না। কর্ম-ঘণ্টাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন স্তরে ক্লাস নেয়া হবে। এক্ষেত্রে মৌলিক বিষয়’গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। সপ্তাহে একটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ২ অথবা ৩ দিন ক্লাস নেয়া হবে। সপ্তম ও দ্বাদশ শ্রেণিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। পরীক্ষা কমাতে শ্রেণি-শিক্ষকদের মাধ্যমে ক্লাস মূল্যায়ন বাড়ানো হবে।

অপরদিকে এই বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধি-দফতরের মহা-পরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই করোনার-ঝুঁকিতে ফেলতে চাই না। সেজন্য স্কুল-কলেজ খুললে সার্বিক নিরা’পত্তার-স্বার্থে স্বাস্থ্য’বিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে। পরীক্ষা কমাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস মূল্যায়ন করে বিভিন্ন বিষয়ে নম্বর দেয়া হবে। ক্লাসে মৌলিক বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হবে। স্বাস্থ্য-সুরক্ষার জন্য গাইডলাইন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর স্বাস্থ্য’বিধি-সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নির্দেশনা’গুলো স্বাস্থ্য’বিধি হিসেবে নির্বাচন করা হবে। গাইড-লাইন তৈরির পর মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে তা প্রজ্ঞাপন আকারে-জারি করা হবে।’

‘স্বাস্থ্য’বিধি অনুসরণ করতে নানাভাবে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করে তোলা হবে। এগুলো একটি বই আকারে তৈরি করে তা সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে। সেখানে প্রতিষ্ঠান খোলার আগে কী করণীয় এবং পরে কোনো ধরনের সমস্যা-দেখা গেলে কী করণীয় সেসব বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে।’

অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য স্বাস্থ্য’বিধি গাইড-লাইন তৈরি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহের মধ্যে নীতি’মালাটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হতে পারে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান খুললে এটি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণ’শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সচিব বলেন, ‘স্বাস্থ্য’বিধি মেনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান পরিচালনা করা হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, সিডিসি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া স্বাস্থ্য সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো মেনে করোনা পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য আমরা দিক-নির্দেশনা তৈরি করেছি। সবাইকে সেগুলো মেনে চলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা-পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগের মতো আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হবে না। বিদ্যালয় খোলার ১৫ দিন আগে থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রস্তুতি শুরু করা হবে। ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করণীয় ও প্রতিদিন কীভাবে ক্লাস পরিচালনা করা হবে সেসব বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত খসড়া-নির্দেশনায় দেখা গেছে, বিদ্যালয় খোলার সরকারি নির্দেশনা আসার পর ন্যূনতম ১৫ দিন আগে শিক্ষক, কর্মচারী এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সদস্যদের উপস্থিতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। করোনা-পরিস্থিতির মধ্যে ক্লাস উপযোগী করে বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন করে তুলতে হবে। বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুলের গেটে বা প্রবেশের স্থানে হাত ধোয়ার জন্য সাবান ও পানির ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে প্রবেশ করবেন। থার্মোমিটার দিয়ে তাপ’মাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করানো হবে।

পাঠ্যক্রম পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আগের মতো ক্লাসে এক বেঞ্চে তিন-চারজন বসতে পারবে না, দূরত্ব বজায় রেখে পাঠদান করা হবে। সামাজিক-দূরত্ব বজায় রেখে এক বেঞ্চে দু’জন শিক্ষার্থীকে বসাতে হবে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আগের মতো আর সপ্তাহে ছয়’দিন ক্লাস হবে না। একটি স্তরে সপ্তাহে দুই বা তিন দিন অথবা প্রতিদিন দু-তিনটি ক্লাস নেয়া হবে। তবে ক্লাস নেয়ার ক্ষেত্রে চতুর্থ শ্রেণিকে অধিক গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। সেই ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব’পূর্ণ পাঠ্যক্রম-নির্বাচন করে কোন দিন কোন বিষয়ের ক্লাস নেয়া হবে তা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও এসএমসির সদস্যদের নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

বিদ্যালয় চলা’কালীন করণীয় হিসেবে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে আসতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধ্যতা’মূলক মুখে মাস্ক পরে আসতে হবে। বিদ্যালয়ে-প্রবেশের সময় সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে উপচেপড়া ভিড় করে খেলাধুলা, আড্ডা-গল্প করতে পারবে না। সামাজিক দূরত্ব রেখে হাঁটাচলা করতে হবে। নোটিশ বোর্ডে বিদ্যালয় শিক্ষক, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি-যোগাযোগ নম্বর লিখে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। কেউ অসুস্থ-হলে বিদ্যালয় কর্তৃ’পক্ষের সহায়তায় তাকে চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে।

এখান থেকে শেয়ার দিন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2019 agambarta24.com
Design BY NewsTheme