Notice :
আমাদের সাইটে আপনাদের স্বাগতম
জান্নাত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস

জান্নাত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস

জান্নাত, জান্নাতের নিয়ামতসমূহ ও জান্নাতবাসীগনের বিবরণ

৬৮৬৯। আবদুরল্লাহ ইবনু মাসলামা ইবনু কা’নাব (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতকে বেষ্টন করে রাখা হয়েছে অপছন্দনীয় বস্তু দ্বারা এবং জাহা*ন্নামকে বেষ্টন করে রাখা হয়েছে কামনা-বাসনা বস্তু দ্বারা।

৬৮৭০। যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৬৮৭১। সাঈদ ইবনু আমর আশআছী ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব জি*নিস প্রস্তুত রেখেছি যা কখনো কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ কখনো কল্পনাও করেনি। আল-কুরআনে এর সত্যায়ন রয়েছে “কেউ জানে না তাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর কী লুকায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ।” (সূরা সাজদাঃ ১৭)

৬৮৭২। হারুন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন জি*নিস প্রস্তুত রেখেছি যা কোন চক্ষু কখনো দেখেনি, কোন কান কখনো শুনেনি এবং কোন হৃদয়-মন যা কখনো কল্পনাও করেনি। এসব নিয়ামত আমি সঞ্চিত রেখে দিয়েছি। আল্লাহ তোমাদেরকে যা জানিয়েছেন তা রাখ (তা-তো আছেই)।

৬৮৭৩। আবূ বকর ইবনু আবী শায়বা ও আবূ কুরায়ব (অন্য সনদে) ইবনু নুমায়র (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব জি*নিস তৈরী করে রেখেছি, যা কোন চক্ষু কখনো দেখেনি, কোন কান কখনো শুনেনি এবং যা কোন মন কখনো কল্পনাও করেনি। এগুলো আমি তোমদের জন্য জমা করে রেখে দিয়েছি। এসব ছাড়া আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছু দেখিয়েছেন তা তো আছেই। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন, “কেউই জানেনা তাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর কী লুকায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ।” (সূরা সাজদাঃ ১৭)।

৬৮৭৪। হারুন ইবনু মারুফ ও হারুন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ আস সাঈদী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বর্ননাতীতভাবে জান্নাতের প্রশংসা করে শেষ পর্যায়ে বললেন, এতে এমন সব নিয়ামত রয়েছে যা কোন চক্ষু কখনো দেখেনি, কোন কান কখনো শুনেনি এবং কোন মন কখনো কল্পনাও করেনি। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন, “তারা শয্যা ত্যাগ করতঃ তাদের প্রতিপালককে ডা*কে, আশায় ও আশংকায় এবং তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউই জানেনা তাদের জন্য নয়ন প্রীতিকরণ কী লুকায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ।”

৮৭৫। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ বছর পর্যন্ত সফর করতে পারবে।

৬৮৭৬। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) এর সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে অধিক রয়েছে যে, এতেও সে তা অতি*ক্রম করতে পারবে না।

৬৮৭৭। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম হানযালী (রহঃ) … সাহুল ইবনু সা’দ (রাঃ) সুত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জান্নাতের মধ্যে এমন একটি বৃক্ষ রয়েছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ বছর সফর করেও তা শেষ করতে পারবে না।

বর্ণনাকারী আবূ হাযিম (রহঃ) বলেন, নু’মান ইবনু আবূ আয়্যাশ যুরাকীর নিকট আমি এ হাদীস বর্ণনা করার পর তিনি বললেন, আমাকে আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বলেছেনঃ জান্নাতের মাঝে এমন একটি বৃক্ষ আছে, যা (উন্নতজাতের প্রশিক্ষিত) দ্রুতগামী অশ্বের আরোহী একশ’ বছর পর্যন্ত সফর করেও অতিক্রম করতে পারবে না।

৬৮৭৮। মুহাম্মাদ ইবনু আবারে রহমান ইবনু সাহম (অন্য সনদে) হারুন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) সুত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জান্নাতী লোকদেরকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে জান্নাতীগণ! তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার নিকটে উপস্থিত আছি। সমস্ত কল্যাণ আপনারই হাতে। অতঃপর তিনি বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট? তারা উত্তর দেবে, হে আমাদের প্রতিপালক! কেন আমরা সন্তুষ্ট হবো না? অথচ আপনি আমাদেরকে এমন জিনিস দান করেছিল যা আপনার সৃষ্টি জগতের অন্য কাউকে দান করেননি। তিনি বলবেন আমি কি তোমাদেরকে এর থেকে উত্তম জি*নিস দান করব না? তারা বলবে, হে রব! এর চাইতে উত্তম বস্তু আর কি হতে পারে? অতঃপর আল্লাহ বলবেনঃ আমি তোমাদের উপর আমার সন্তুষ্টি অবতরণ (স্থাপন) করব। এরপর তোমাদের উপর আমি আর কখনো অ*সন্তুষ্ট হবো না।

৬৮৭৯। কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) … সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতী লোকেরা জান্নাতের সুউচ্চ বালাখালাসমূহ দেখতে পাবে, তোমরা যেমন আকাশের তারকারাজি দেখে থাক। বর্ণনাকারী বলেন, নু’মান ইবনু আবূ আয়্যাশের নিকট এ হাদীসটি আমি বর্ণনা করার পর তিনি বললেন, আমি আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, যেমনিভাবে তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম দিগন্তের তারকা দেখে থাক।

৬৮৮১। আবদুল্লাহ ইবনু জাফর ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু খালিদ (অন্য সনদে) হারুন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতের বাসিন্দাগণ জান্নাতের সুউচ্চ বালাখানাসমূহ দেখতে পাবে, যেমন অস্তগামী (দূরবর্তী) উজ্জ্বল তারকা তোমরা আকাশের পৃর্ব বা পশ্চিম দিগন্তে দেখতে পাও। কেননা তাদের পরস্পরে মর্যাদার ক্ষেত্রে পার্থক্য বিদ্যমান থাকবে। (এ কথা শুনে) সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ স্তরসমুহ তো নবীদের জন্য নির্দিষ্ট। তাদের ব্যতীত অন্যেরা তো এ স্তরে কখনো পৌছতে পারবে না। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, নিশ্চয়ই পারবে। যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ আমি তাঁর কসম (করে বলছি)! যে সমস্ত লোক আল্লাহতে ঈমান আনয়ন করেছে এবং তাঁর রাসুলদের প্রতি আস্থা স্থাপন করেছে, (তারা সকলেই এ মর্যাদা সম্পন্ন স্তরসমূমুহে অবস্থান করতে সক্ষম হবে)।

৬৮৮৩। আবূ উসমান সাঈদ ইবনু আবদুল জাব্বার আল বাসরী (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ জান্নাতে একটি বাজার থাকবে। প্রত্যেক জুমআয় (সপ্তাহে) জান্নাতী লোকেরা এতে সমবেত হবে। অতঃপর উত্তরের বায়ু প্রবাহিত হয়ে সেখানকার ধূলা-বালি তাদের মুখমন্ডল ও কাপড় চোপড়ে গিয়ে লাগবে। এতে তাদের রূপ ও সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পাবে। অতঃপর তারা নিজ পরিবারের নিকট ফিরে আসবে। এসে দেখবে, তাদের গায়ের রং এবং সৌন্দর্য বহু বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর তাদের পরিবারের লোকেরা বলবে, আল্লাহর কসম! আমাদের নিকট হতে যাবার পর তোমাদের রূপ সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরে তারাও বলবে, আল্লাহর শপথ! আমাদের যাবার পর তোমাদের রূপ সৌন্দর্য বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৬৮৮৪। আমর নাকিদ ও ইয়াকুব ইবনু ইবরাহীম আদদাওরাকী (রহঃ) … মুহাম্মদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা হয়ত গর্ব প্রকাশ করে বলল, অথবা আলোচনা করতঃ বলল, জান্নাতে পুরুষ বেশী হবে, না নারী? এ কথা শুনে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেন নি, প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় দপ্তীয়মান। তাদের পর যারা জান্নাতে যাবে তাদের চেহারা হবে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায়। তাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকবে দু জন স্ত্রী। গোশতের ওপাশ হতে তাদের পায়ের গোছার (অস্থির) মগজ দেখা যাবে। জান্নাতের মধ্যে কেউ অবিবাহিত থাকবে না।

৬৮৮৮। মুহাম্মাদ ইবনু রাফি (রহঃ) … হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এ হচ্ছে (সে সব হাদীস) যা আবু হুরায়রা (রাঃ) আমাদের শুনিয়েছেন,এভাবে তিনি কয়েকটি হাদিস উল্লেখ করেন। এর থেকে একটি হল এই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দলটি প্রথমে জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় দীপ্তিমান হবে। সেখানে তারা থুথু ফেলবে না, নাক ঝাড়বেনা এবং পায়খানাও করবে না। তাদের বরতন এবং চিরুনিসমূহ স্বর্ণ এবং রৌপ্য নির্মিত হবে। তাদের ধুপদানীগুলো হবে অগর কাঠের। তাদের ঘাম হবে মিশক এর ন্যায় সুঘ্রাণযুক্ত। তাদের প্রত্যেকেরই দু’জন করে এমন স্ত্রী থাকবে যে, সৌন্দর্যের কারণে গোশতের উপর থেকে তাদের পায়ের গোছার মগজ দেখা যাবে। তাদের মধ্যে কোন মতানৈক্য থাকবে না এবং থাকবে না কোন হিংসা বি*দ্বেষ। তাদের হৃদয় একই হৃদয়ের ন্যায় হবে। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করবে।

এখান থেকে শেয়ার দিন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2019 agambarta24.com
Design BY NewsTheme