Notice :
আমাদের সাইটে আপনাদের স্বাগতম
বড় ভাইয়ের নির্দেশে আবরারকে ডেকে এনে মুখে কাপড় দিয়ে মারা হয়: সাদাত

বড় ভাইয়ের নির্দেশে আবরারকে ডেকে এনে মুখে কাপড় দিয়ে মারা হয়: সাদাত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবরার ফাহাদ রাব্বীকে তার রুম থেকে ডেকে আনার নির্দেশ দেন বুয়েটের পাঁচ ছাত্রলীগ নেতা।

তারা হলেন- মো. মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মনিরুজ্জামান মনির, মোজাহিদুল রহমান ও ইফতি মোশাররফ সকাল।

আবরারকে যখন তার রুম থেকে ডেকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নেয়া হয় তখন আমার সঙ্গে ছাত্রলীগের আরও কয়েকজন ছিল। আমাদের নি*র্যাতনের কারণেই আবরারের মৃত্যু হয়।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালতে আবরার হ*ত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আ*সামি এএসএম নাজমুস সাদাত রি*মান্ড শুনানিকালে এসব তথ্য দেন। তবে শুনানি শেষে সাদাতের পাঁচ দিনের রি*মান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

ঢাকা মহানগর গোয়ে*ন্দা পুলিশের (ডিবি) জি*জ্ঞাসাবাদেও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন সাদাত।

আসা*মিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রি*মান্ড আবেদন করা হয়। মা*মলার ত*দন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরি*দর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান এ আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে শেরে বাংলা হলের তার রুম (নম্বর ১০১১) থেকে হ*ত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে যায় এবং ৭ অক্টোবর রাত আড়াইটা পর্যন্ত ওই হলের ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর রুমে আ*সামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট স্টাম্প ও লাঠিসোটা এবং রশি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্মম নি*র্যাতন চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আবরার মারা যায়।

পরে আ*সামিরা ঐ ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে আবরারের মৃতদেহ ফেলে রাখে এবং কিছু ছাত্র আবরারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তদ*ন্তকালে সাক্ষ্য-প্রমাণে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণে আ*সামি নাজমুস সাদাতের প্রত্যক্ষভাবে জ*ড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ইতিপূর্বে আদালতে দোষ স্বীকারোক্তি দেয়া আ*সামিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আ*সামি নাজমুস সাদাতের নাম প্রকাশ করেছে। মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর হ*ত্যা মা*মলা। এজন্য আ*সামিদের ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জি*জ্ঞাসাবাদ করা একান্ত জ*রুরি। মা*মলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, এজাহারভুক্ত পলা*তক আ*সামিদের গ্রে*ফতার ও অজ্ঞাতনামা আ*সামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদের গ্রেফ*তারের লক্ষ্যে আ*সামিকে রি*-মান্ডে নেয়া প্রয়োজন।

বিকাল ৩টার দিকে নাজমুস সাদাতকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তাকে হাতকড়া পরিয়ে এজলাসের ডকে রাখা হয় এবং এই সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীসহ কয়েক সাংবাদিক আ*সামির সঙ্গে কথা বলেন।

নাজমুস সাদাত বলেন যে, আমি আবরারকে ডেকে নিয়ে আসি। তবে কয়েকজন বড়ভাই আমাদের ডেকে আনতে বলেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে সাদাত বলেন, মারধরের এক পর্যায়ে আবরার পানি খেতে চায় এবং বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে এজলাসে বিচারক এলে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েদ উদ্দিন খান হিরণ আ*সামির রি*মান্ড চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, এই মামলায় ছয় আ*সামি আদালতে দো*ষ স্বীকার করে জ*বানবন্দি দিয়েছে। ঐ ছয় জনই এ আ*সামির নাম বলেছে। আ*সামিরা আবরারকে মুখে কাপড় দিয়ে মেরেছে। পানি পর্যন্ত খেতে দেয়নি। সঠিক সময়ে ডাক্তারও দেখায়নি। এমনকি পুলিশও ঢুকতে দেয়নি আ*সামিরা। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আ*সমির সর্বোচ্চ রি*মান্ড মঞ্জুর করা হোক।

আদালতে আ*সামিপক্ষের কোনো আইনজীবী না থাকায় বিচারক সাদাতের কাছে তার কিছু বলার আছে কিনা তা জানতে চান। উত্তরে সাদাত আদালতকে বলেন যে, আমি আবরারকে মারিনি। আমি বড়ভাইদের কথায় আবরারকে তার রুম থেকে ডেকে নিয়ে আসি।

এ পর্যায়ে বিচারক আ*সামির কাছে জানতে চান, ‘বড়ভাই’ কারা? উত্তরে সাদাত বলেন যে, অনিক, সকাল, মুজাহিদ, রবিন ও মনির। ওরাই আবরারকে মেরেছে। আমি রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখান থেকে চলে আসি। এরপর কী হয়েছে তা আমি জানি না।

এখান থেকে শেয়ার দিন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2019 agambarta24.com
Design BY NewsTheme