Notice :
আমাদের সাইটে আপনাদের স্বাগতম
শসার উপকারিতা ও গুনাগুন

শসার উপকারিতা ও গুনাগুন

শসা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী সবজি। প্রায় বারো মাসই পাওয়া যায় এটি। শসার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবেনা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, দেহের পানির অভাব পূরন, রূপচর্চাসহ নানা উপযোগিতা আছে এই সহজলভ্য সবজির। শসাতে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে (৯৫ভাগ) ফলে এটি শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে এবং ভেতরের তাপমাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ করে দেহ শীতল রাখতে সহায়তা করে। শসায় ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম এবং এতে কোনো চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই। শসার ইংরেজি নাম Cucumber, বৈজ্ঞানিক নাম Cucumis Sativus। আসুন, জেনে নেই উপকারী শসার গুণের কথা, 

শসার পুষ্টিগুণঃ
শসা নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। প্রতি ১০০ গ্রাম শসাতে রয়েছে –

উপাদানপরিমাণ
খাদ্যশক্তি১৫ কিলোক্যালরি
আমিষ০.৬৫ গ্রাম
শর্করা৩.৬৩ গ্রাম
ফাইবার ০.৫ গ্রাম
কোলেস্টেরল০ মিলিগ্রাম
চর্বি০.১১ গ্রাম
ভিটামিন এ১৫০ আইইউ
ভিটামিন সি২.৮ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম১৪৭ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম১৬ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম২ মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম১৩ মিলিগ্রাম
ফসফরাস২৪ মিলিগ্রাম
লৌহ০.২৮ মিলিগ্রাম
জিংক০.২০ মিলিগ্রাম

শসার উপকারিতা এবং পুষ্টি বার্তাঃ
শসার রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য উপকারিতা। আসুন আমারা শসার উপকারিতা গুলো আজ জেনে নেই

  • শসা পানির ঘাটতি পূরণ করে, যদি কোনো কারণে পানি কম পান করা হয়, তাহলে শসা খেয়ে নিন কারন শসার ৯৫ শতাংশ পানি। তাই সহজেই পানির ঘাটতি পূরণ হয়ে যায় এবং পেট ঠাণ্ডা থাকে।
  • শসাতে ভিটামিন এ, বি ও সি বিদ্যমান যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়। তাছাড়া শসায় উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন থাকে, যা ত্বকের পরিচর্যায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ জন্য ত্বকের পরিচর্যায় শসা ব্যবহার করা হয়। সূর্যের তাপে ত্বকে জ্বালা অনুভব করলে শসা কেটে ত্বকে ঘষে নিন নিশ্চিত ফল পাবেন।
  • অধিক ফাইবার ও ফ্লুইডসমৃদ্ধ শসা শরীরে ফাইবার এবং পানির পরিমাণ বাড়ায়। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার থাকার কারণে শসা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে। এছাড়া জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমায়।
  • শসায় উচ্চমাত্রায় পানি ও ফাইবার এবং নিম্নমাত্রার ক্যালরি রয়েছে যা দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করে, যারা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য শসা আদর্শ টনিক হিসেবে কাজ করবে। কাঁচা শসা চিবিয়ে খেলে তা হজমে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে।
  • এরেপসিন নামক অ্যানজাইম থাকার কারণে শসা হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধান করে থাকে। নিয়মিত শসা খেলে দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর হয় এবং শসার মধ্যে যে পানি থাকে তা আমাদের দেহের বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে সাহায্য করে।
  • ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি দেয়, কোলস্টেরল কমায় ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাছাড়া শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঠিক রাখে শসা। এতে কিডনি থাকে সুস্থ ও সতেজ।
  • শসা গোল করে কেটে চোখের পাতায় বসিয়ে দিলে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা যেমন অপসারিত হয়, তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়াতেও কাজ করে। শসার মধ্যে যে খনিজ সিলিকা থাকে তা আমাদের চুল ও নখকে সতেজ ও শক্তিশালী করে তোলে।
  • শসার রস আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস, অ্যাসিডিটির ক্ষেত্রেও উপকারী। শসায় রয়েছে স্টেরল নামের এক ধরনের উপাদান, যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

এছাড়া শসা ওবেসিটি বা ওজন নিয়ন্ত্রণে খুব উপকারী। মিনারেলসমৃদ্ধ শসা নখ ভালো রাখতে এবং দাঁত ও মাড়ির সমস্যায় সাহায্য করে। মাথাধরা থেকে নিষ্কৃতি, গেঁটেবাত থেকে মুক্তি, কিডনি, ইউরিনারি, ব্লাডার, লিভার ও প্যানক্রিয়াসের সমস্যায় শসা বেশ সাহায্য করে থাকে। 

এখান থেকে শেয়ার দিন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2019 agambarta24.com
Design BY NewsTheme